
নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা
বঙ্গোপসাগরের বিপুল সামুদ্রিক সম্পদ কাজে লাগিয়ে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত, রপ্তানি বহুমুখীকরণ এবং কর্মসংস্থান বাড়াতে নীল অর্থনীতির সম্ভাবনা কাজে লাগানোর উদ্যোগ জোরদার করছে সরকার। এ লক্ষ্যে সামুদ্রিক সম্পদ আহরণ, মৎস্য উৎপাদন, সামুদ্রিক গবেষণা এবং সমুদ্রের তলদেশে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে প্রয়োজনীয় নীতিমালা ও নির্দেশিকা প্রণয়নে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
সামুদ্রিক মৎস্য চাষ, কাঁকড়া উৎপাদন, গভীর সমুদ্রে মাছ ধরা এবং সামুদ্রিক সম্পদের টেকসই ব্যবহারের জন্য কার্যকর নীতিমালা প্রণয়নের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি সমুদ্রের তলদেশে তেল ও গ্যাসের সম্ভাব্য মজুত অনুসন্ধানেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
ভৌগোলিক অবস্থান ও বিপুল সামুদ্রিক সম্পদ থাকা সত্ত্বেও গভীর সমুদ্রে বাণিজ্যিকভাবে মাছ ধরা এবং সমুদ্রের তলদেশে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে বাংলাদেশ এখনো উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করতে পারেনি। এ ক্ষেত্রে প্রতিবেশী ভারত ও মিয়ানমারের তুলনায় বাংলাদেশ পিছিয়ে রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনা রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নীল অর্থনীতির সম্ভাবনা কাজে লাগাতে হলে শুধু নীতিমালা প্রণয়ন করলেই হবে না, এর কার্যকর বাস্তবায়নও নিশ্চিত করতে হবে। আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, দক্ষ জনবল তৈরি, বৈজ্ঞানিক গবেষণা, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং সামুদ্রিক সম্পদ আহরণে যথাযথ তদারকি জোরদার করা জরুরি।
তাঁদের মতে, সামুদ্রিক মৎস্যসম্পদ, সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য, পর্যটন এবং সমুদ্রভিত্তিক শিল্পের বিকাশ দেশের অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলতে পারে। একই সঙ্গে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও সামুদ্রিক সম্পদের টেকসই ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ।
সঠিক পরিকল্পনা, কার্যকর নীতিমালা এবং সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগের সমন্বয় করা গেলে বঙ্গোপসাগরের সম্পদ বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির অন্যতম চালিকাশক্তি হয়ে উঠতে পারে।






























































