back to top
Home প্রচ্ছদ তথ্য-প্রমাণ ছাড়াই খালেকুজ্জামান বাবলুকে জড়িয়ে সংবাদ প্রচারের অভিযোগ: ‘স্টার টেলিভিশনের প্রতিবেদন একপেশে...

তথ্য-প্রমাণ ছাড়াই খালেকুজ্জামান বাবলুকে জড়িয়ে সংবাদ প্রচারের অভিযোগ: ‘স্টার টেলিভিশনের প্রতিবেদন একপেশে ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’

খালেকুজ্জামান বাবলুকে জড়িয়ে সংবাদ প্রচারের

কালীগঞ্জ (গাজীপুর) প্রতিনিধি: গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব খালেকুজ্জামান বাবলুকে জড়িয়ে সম্প্রতি প্রচারিত একটি সংবাদকে সম্পূর্ণ একপেশে, বিভ্রান্তিকর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন তাঁর পক্ষের লোকজন। তাদের অভিযোগ, সংবাদটিতে এমন কিছু তথ্য-উপাত্ত উপস্থাপন করা হয়েছে, যার সঙ্গে প্রকৃত ঘটনা ও বাস্তবতার কোনো সামঞ্জস্য নেই।

 

প্রতিবাদকারীদের দাবি, খালেকুজ্জামান বাবলু কোনো জমি দখল করেছেন এমন সুনির্দিষ্ট দলিল, আদালতের রায় বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্ত প্রতিবেদন সংবাদে উপস্থাপন করা হয়নি। বরং পূর্বে মীমাংসিত একটি বিষয়সংক্রান্ত কাগজপত্রকে এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যাতে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়।

 

তাদের আরও অভিযোগ, একটি গুরুতর অভিযোগকে সংবাদ হিসেবে প্রকাশ করার আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্য নেওয়া সাংবাদিকতার মৌলিক নীতির অংশ। অথচ আলোচিত প্রতিবেদনে খালেকুজ্জামান বাবলুর বক্তব্য গ্রহণ বা তাঁর পক্ষের বক্তব্য যথাযথভাবে উপস্থাপন করা হয়নি। ফলে প্রতিবেদনটি কতটা ভারসাম্যপূর্ণ ও নিরপেক্ষ; তা নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে।

 

প্রতিবাদকারীরা বলেন, কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে জমি দখল, চাঁদাবাজি কিংবা অন্য কোনো গুরুতর অভিযোগ থাকলে তার পক্ষে-বিপক্ষে থাকা দলিল, মামলা, তদন্ত প্রতিবেদন, আদালতের নথি এবং প্রত্যক্ষ সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য যাচাই করা জরুরি। শুধু অভিযোগের ভিত্তিতে কাউকে সামাজিকভাবে হেয় করা বা তার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করা কোনোভাবেই দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার উদাহরণ হতে পারে না।

 

তাদের ভাষ্য, “সাংবাদিকতা যদি সত্য অনুসন্ধানের পরিবর্তে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারের হাতিয়ার হয়ে যায়, তাহলে ক্ষতিগ্রস্ত হয় শুধু একজন ব্যক্তি নয়; গণমাধ্যমের ওপর সাধারণ মানুষের আস্থাও।”

এদিকে বাবলুর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, সংবাদটিতে তাঁর বক্তব্য না নিয়ে এবং অভিযোগের যথাযথ প্রমাণ উপস্থাপন না করে একতরফাভাবে বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। এতে তাঁর দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও সামাজিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টা হয়েছে বলে তাঁরা মনে করছেন।

 

তবে ‘অর্থের বিনিময়ে সংবাদটি করা হয়েছে’ এমন অভিযোগের পক্ষে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। প্রতিবাদকারীরা বলেন, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি ভুক্তভোগী বা অভিযুক্ত—উভয় পক্ষের বক্তব্য নেওয়া, তথ্য যাচাই করা এবং প্রমাণ ছাড়া কাউকে দোষী হিসেবে উপস্থাপন না করাও সাংবাদিকতার দায়িত্ব।

তাঁরা সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমের কাছে প্রতিবেদনটির তথ্য-উপাত্ত পুনরায় যাচাই, প্রয়োজন হলে সংশোধনী প্রকাশ এবং খালেকুজ্জামান বাবলুর বক্তব্য যথাযথভাবে প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন।

 

একই সঙ্গে তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, কারও রাজনৈতিক বা সামাজিক অবস্থানকে লক্ষ্য করে মিথ্যা বা অর্ধসত্য তথ্য প্রচারের মাধ্যমে সম্মানহানি করার চেষ্টা হলে প্রয়োজনে আইনগত ও সাংগঠনিকভাবে তার মোকাবিলা করা হবে।

তাদের স্পষ্ট বক্তব্য অভিযোগ থাকলে তদন্ত হোক, প্রমাণ থাকলে তা প্রকাশ করা হোক; কিন্তু প্রমাণ ছাড়া কাউকে অপরাধী বানিয়ে প্রচার করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।